ভেরিকোস ভেইন হল রক্তনালীর একটি সাধারণ রোগ। ত্বকের নিচে জন্মানো ফোলা শিরাগুলি (ব্যাস ৩ মিলিমিটার বা এর বেশি) আকারে বড়, আঁকাবাঁকা ও প্যাঁচানো শিরাকে ভেরিকোস ভেইন বলে। তবে সাধারণত পায়ে ভেরিকোস ভেইন দেখা যায়। এই রোগ শরীরের যে কোন অংশেই দেখা দিতে পারে।
প্রথম দিকে অসস্তি লাগলেও সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করলে পরবর্তীতে নানা উপসর্গ দেখা দেয় ও জটিল থেকে জটিলতর আকার ধারণ করে। একটি পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে দেশের ৯-১০% মানুষের এই রোগ রয়েছে। এই রোগ সম্পর্কে আগে হয়তো সাধারণ মানুষ জানতো না।
যখন শিরার মধ্যে থাকা ভালভগুলি (যেগুলো রক্ত প্রবাহের একমুখী রাখতে সাহায্য করে) দুর্বল বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফলে শিরাগুলিতে রক্ত উল্টোভাবে এসে জমা হতে শুরু করে এবং এবং শিরাগুলি আকারে বড় আঁকাবাঁকা হয়ে যায়।
আপনি যদি উপরের লক্ষণ গুলির কোনটি অনুভব করেন, তাহলে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। ভাসকুলার সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার চোখে দেখেই প্রায় নিশ্চিতভাবে ভেরিকোস ভেইন নির্ণয় করা সম্ভব।
তারপরও চিকিৎসার সুবিধার্থে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করার প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো ডুপ্লেক্স স্টাডি। এর মাধ্যমে শিরার গতি প্রকৃতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। এই পরীক্ষাটি অপারেশনের পরিকল্পনার জন্যও জরুরি।
ভেরিকোজ ভেইন বা আঁকাবাঁকা শিরার সমস্যায় অপারেশন সাধারণত তখনই প্রয়োজন হয় যখন রোগীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বা কাজকর্মে এ সমস্যা হয় এবং অন্যান্য চিকিৎসা যেমন কম্প্রেশন স্টকিংস, ঔষধ এর মাধ্যমে সমস্যা না কমে, পায়ে ব্যথা, ফোলাভাব, চুলকানি, ক্র্যাম্পিং, বা আলসার দেখা যায়। রক্ত জমাট বাঁধার মতো জটিলতা দেখা দেয়। ভেরিকোজ ভেইন থেকে ক্রমাগত রক্তপাত হতে পারে।
অপারেশন করার আগে, একজন ভাসকুলার বিভাগের ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে বিস্তারিত জেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
প্রাথমিক পর্যায়ে অপারেশন ছাড়াই লক্ষণসমূহ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়ন্ত্রণের করণীয় সমূহ হচ্ছে—
একটা পর্যায়ে ভেরিকোস ভেইন চিকিৎসার অপারেশন প্রায় অপরিহার্য হয়ে পড়ে। ভেরিকোস ভেইন অপারেশন মূলত দুই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে— ১. কাটা-ছেঁড়া মাধ্যমে (ওপেন সার্জারী), ২. কাটা-ছেঁড়া বিহীন (এন্ডোভাসকুলার)। রোগীবিশেষে কোন অপারেশনটি প্রয়োজন তা ভাসকুলার সার্জারী বিশেষজ্ঞ সিদ্ধান্ত নিবেন। অপারেশন পরবর্তী কম্প্রেশন স্টকিংস ব্যবহার ও অন্যান্য নিয়ম মেনে চলতে হবে, নচেৎ পুনরায় আবার ভেরিকোস ভেইন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
যারা ভেরিকোস ভেইন সমস্যায় ভুগতেছেন তাদের চিন্তা করার কারণ নেই। এটি ছোঁয়াচে বা ক্যান্সার জাতীয় রোগ নয়। প্রাথমিক পর্যায়ে অপারেশন ছাড়াই ভেরিকোস ভেইন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে জটিলতা দেখা দেয়। যদি আপনার ক্রনিক ভেনাস ডিজিজের উপসর্গগুলো দেখা দিলে, দেরি না করে ভাসকুলার সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরি। সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে জটিলতা কমাতে সাহায্য করবে।
ভেরিকোস ভেইন হলো পায়ের শিরা ফুলে যাওয়া, আঁকাবাঁকা হওয়া ও দৃশ্যমান হয়ে ওঠার একটি সাধারণ রক্তনালীর রোগ। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে ব্যথা, ফোলা, ত্বকের পরিবর্তন ও জটিলতা দেখা দিতে পারে।
Copyright @ Designed & Developed By SaraSoftware